আনন্দের রোদ-ছায়া


আনন্দের রোদ—ছায়া

✒️ আশরাফ ইবনে আকন্দ 

ইদ-পার্বণ এলে,
জীবিকার জালে জড়ানো
লাখো মানুষ শহর ছাড়ে।
যেন এক সমুদ্রের ঢল—
আত্মার আকুল স্রোতধারা।

বাস, লঞ্চ, ট্রেনে—
দুর্ভোগময় ক্লান্ত যাত্রা,
তবুও ছুটে চলে গাঁয়ের দিকে—
একটুখানি শেকড়ের আশ্রয়ে,
মাটির গন্ধে হারিয়ে যেতে।

যেখানে—
মায়ের মমতায় মোড়ানো চৌকাঠ,
বাবার চোখে জমানো স্নেহ,
ভাই-বোনের খুনশুটি
প্রাণে তোলে ঢেউ।

প্রেয়সীর ঠোঁটে
জমে থাকে অনুরাগ,
সন্তানের খুশির আবিরে
রাঙে হাওয়ার পালক।

ইদ—
এক কাঙ্ক্ষিত দিন,
একদিন, দুইদিন,
হয়তো তিনদিন।
এই সময়টুকু
মধুর, স্নিগ্ধ, জ্যোৎস্নাময়।

তারপর ফের ছুটে চলা—
পথের হাঁসফাঁস,
ঠেলাঠেলি, ঠাসাঠাসি—
বাসে, লঞ্চে, ট্রেনের সিঁড়িতে।

যখন দেখা যায়,
কাজে ফেরার তাড়া নেই আর,
আনন্দের আলপনা খসে পড়ে,
হাসির রোশনাই মুছে যায়,
আঁধারে ঢেকে যায়
গাঁয়ের উঠোন।

মনের আকাশে জমে আশঙ্কার কালো মেঘ—
এখনো ফিরছে না কেন শহরে?
তবে কি চাকরিটা আর নেই?

রোজগারহীন
প্রিয়জনও হয়ে ওঠে—
ঘরের পেছনে বেড়ে ওঠা
জামরুল গাছটার চেয়েও মূল্যহীন—
যেন ঝরে পড়া
একটি পাতা।

প্রশ্ন থেকে যায়—
উপার্জনই কি একমাত্র পরিচয়?
না কি মানুষ থাকার
আরো কোনো মানে আছে?

আনন্দের রোদ-ছায়া/ ইদ-পার্বণ/ আনন্দ- উদ‍‍্‌‍‍বেগ

🗓️ ০৯ জুন ২০২৫ খ্রি. 

0 comments:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

লেখাপত্র ২০২৫. Blogger দ্বারা পরিচালিত.

সর্বশেষ

অস্পৃশ্য স্বাধীনতা

অস্পৃশ্য স্বাধীনতা ​ — আশরাফ ইবনে আকন্দ হে স্বাধীনতা, তুমি ঠোঁটের ডগায় লেগে থাকা মানে না বোঝা পুরোনো কোনো মন্ত্র, এক অভ্যস্ত উচ্চারণ। তুমি ...

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Contact form

নাম

ইমেল *

বার্তা *

অধিক পঠিত পোস্ট