এটি একটি প্রতীকী ও রাজনৈতিক বাস্তবতানির্ভর কবিতা। এখানে কবি স্বাধীনতা, বিপ্লব, গণআন্দোলন, স্বপ্নভঙ্গ ও শাসনব্যবস্থার প্রতারণা চিত্রায়ন করেছেন অত্যন্ত শৈল্পিক ভাষায়।
স্বপ্নপতন
— আশরাফ ইবনে আকন্দ
শিক্ষার্থীর মুঠোয় পতাকা,
শ্রমিকের বুকে দীপ্ত স্বপ্ন,
কৃষকের চোখে আগুন,
নারীর আঁচলে বিপ্লবী পঙ্ক্তি,
জনতার কণ্ঠে বিদ্রোহী কবিতা।
ঘোড়ার লাগাম ছুটে রাজপথে,
দাম্ভিকতার ভারে ডুবে
রূপকাঠের নৌকাখানি
রক্তস্রোতের ঢেউয়ে।
মসজিদের মিনারে ধ্বনিত হয়
নবযুগের আজান।
স্বৈরাচার যায়—
রুদ্ধ ইতিহাস চিরে জাগে নতুন রবি।
অর্ধশতাব্দীর ক্লান্তি বুকে নিয়ে
জাতি নিশ্বাস ফেলে—
এবার বুঝি বাঁচা গেল!
কিন্তু—
পেছনের দুয়ার খুলে
নিঃশব্দে ঢুকে পড়ে মুখোশধারী;
জন্ম নেয় আরেক ত্রাস,
নতুন মুখ, পুরোনো চাবুক।
নমরুদ ঝরে পড়ে ইতিহাসের পাতায়,
ফের জেগে ওঠে ফেরাউনের ঔদ্ধত্য।
যাদের কাঁধে ভরসার ভার—
তারা নয় সালাউদ্দিন।
রাষ্ট্রের ছায়ায় দাঁড়িয়ে
ঘুমন্ত মানুষের বুক চিরে
লেখে নিশ্বাসহীন সকাল।
আমরা যারা স্বপ্নচারী—
ভেবেছিলাম, দেশটা হবে গোলাপের মতো,
গন্ধে ভরে যাবে পুড়ে যাওয়া ধূসর ঘর।
বাদশা আলমগীর বৃক্ষ হয়ে জন্মাবে
ধু-ধু প্রান্তরে!
না—
এই মাটিতে গজানো
বৃক্ষের শিকড়ে বিষ,
ডালপালায় ঝরে বিষবাষ্প,
আর ফলে মরণরস।
তবু লিখি—
কারণ, কবিতারও আছে এক স্বদেশ,
যেখানে প্রতিটি পতনের পরে
একদিন ফিরে আসবে বসন্ত,
মুছে দেবে কালান্তরের অন্তর্দহন—
পঙ্ক্তিমালা হয়ে উঠবে
স্বপ্নপতনের নীরব প্রতিরোধ!
※
❍ ০৫ আগস্ট ২০২৫ খ্রি.
উৎসর্গ
জুলাই-বিপ্লব ’২৪-এর সে অগ্নিময় বিকেলকে— যেখানে পিপাসার মত জেগে উঠেছিল স্বপ্ন, আর গলায় গলায় মিলেছিল স্লোগানের ঢেউ।
যাদের কাঁধে আগুনের চাদর, বুকভরা বৃষ্টির মতো রক্ত, তবু তারা হেঁটেছে, নির্বাক, অনাহারে, মুক্তির পতাকা হাতে।
তোমাদের জন্য— ওহে নামহীন বিদ্রোহী, যাদের পদচিহ্নে জন্ম নেয় প্রতিরোধের মানচিত্র।
এই কবিতা রেখে গেলাম তোমাদের অনামা কবরের পাশে— যেখানে ঘাস নয়, জন্মায় বিদ্রোহ, অগ্নিসন্তান!
0 comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন