অস্পৃশ্য স্বাধীনতা



অস্পৃশ্য স্বাধীনতা

— আশরাফ ইবনে আকন্দ

হে স্বাধীনতা,
তুমি ঠোঁটের ডগায় লেগে থাকা
মানে না বোঝা পুরোনো কোনো মন্ত্র,
এক অভ্যস্ত উচ্চারণ।

তুমি আজও অধরা—
গল্পে শোনা রূপকথার মতন  
স্পর্শাতীত, অস্পৃশ্য। 

​কালের ঘূর্ণনে তুমি আজ
দস্যুর মুঠোয় ধারালো অস্ত্র,
বুর্জোয়ার হাটে তোলা পণ্য,
ক্ষমতার আঙিনায় পুতুল হয়ে
নেচেছো অদৃশ্য সুতোয় বাঁধা।

স্বার্থের মোহনায় বিলীন
তোমার আদিম পরিচয়,
তুমি ভাসো—
অসীম এক সমুদ্রের বুকে,
যেখানে ঢেউয়ের শব্দ আছে,
কিন্তু তৃষ্ণার্ত গাঙের কোনো অধিকার নেই।

​হে স্বাধীনতা,
তুমি কি তবে কেবলই ভূখণ্ড বিভাজন?
নাকি কোনো এক ভোরে—
মাটির কাছাকাছি নেমে এসে
মানুষের হাতে সত্যিই ধরা দেবে,
সার্বজনীন? 

উৎসর্গ: 
“সেইসব মানুষদের জন্য,
যাঁদের বুক আজও 
স্বাধীনতার তীব্র আকাঙ্ক্ষায় তৃষ্ণার্ত!”

🗓️ ২৬ মার্চ ২০২৬ খ্রি.
🏠 জালেশ্বর, গফরগাঁও, ময়মনসিংহ।

অস্পৃশ্য স্বাধীনতা // ফেসবুক ভার্সন 

শাওয়ালের ৬টি রোজা

শাওয়ালের ছয় রোজা: ইদ পরবর্তী একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল


📝
মওলানা শিব্বীর আহমদ 

অতুলনীয় ফজিলতের মাস রমজান। পুরো মাসজুড়েই দিনের বেলা সিয়ামসাধনায় মগ্ন থাকেন আল্লাহপ্রেমিক মুসলমানগণ। ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম রমজানের এই সিয়ামসাধনা। সারা বছরে এই একটি মাসেই রোজা রাখা ফরজ। বিরামহীন একমাসের কঠোর এ সাধনার পর যখন আকাশে নতুন চাঁদ ওঠে, রোজাদার মুসলমানগণ তখন তাদের সিয়ামসাধনার একটি পুরস্কার লাভ করে। রমজানের পরবর্তী মাসটি হচ্ছে শাওয়াল আর শাওয়ালের প্রথম তারিখই হচ্ছে ইদুল ফিতর। রমজানের প্রতিটি দিন যেমন রোজা রাখা ফরজ, নারী-পুরুষ ধনী-গরিব নির্বিশেষে সকলের জন্যে এ বিধান শিরোধার্য, তেমনি এ ইদুল ফিতরের আনন্দও সর্বজনীন, এদিন সকলের জন্যেই রোজা রাখা হারাম। রমজানের ফরজ রোজাকে এভাবেই অন্যান্য দিনের রোজা থেকে পৃথক করা হয়েছে। 

শাওয়ালের ৬ রোজার ফজিলত 

অনন্য মহিমায় ভাস্বর হয়ে থাকে পবিত্র মাহে রমজান, অতুলনীয় যে ফজিলতকে তা ধারণ করে রাখে, পরের মাস শাওয়ালের চাঁদ ওঠার সাথে সাথেই কি তা একেবারে শেষ হয়ে যাবে? মহামহিম আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে অনুগত বান্দাদের জন্যে ব্যবস্থা ঠিক এরকম নয়। শাওয়ালের প্রথম তারিখ ইদুল ফিতরের দিন রোজাকে নিষিদ্ধ করে রমজানের অনন্যতাকে একদিকে অধিক স্পষ্ট করা হয়েছে, অপরদিকে ইদের পরদিন থেকেই পুরো মাসজুড়ে ঐচ্ছিকভাবে আরেকটি ফজিলতের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সহিহ মুসলিম শরিফের বর্ণনা, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,

مَنْ صَامَ رَمَضَانَ ثُمَّ أَتْبَعَهُ سِرًّا مِنْ شَوَّالٍ كَانَ كَصِيَامِ الدَّهْرِ 
'যে রমজান মাসের রোজা রাখল, এরপর শাওয়ালের ছয়টি রোজা রাখল, সে যেন পুরো বছরই রোজা রাখল।' [হাদিস নং ১১৬৪]

যে কোনো ভালো কাজ করলে দশগুণ নেকি পাওয়া যায়-এটি কুরআনের ঘোষণা। সুরা আনআমে আল্লাহ তায়ালার ইরশাদ,

مَنْ جَاءَ بِالْحَسَنَةِ فَلَهُ عَشْرُ أَمْثَالِهَا 
'যে কেউ কোনো ভালো কাজ করবে, সে এর দশগুণ নেকি লাভ করবে।' [আয়াত: ১৬০]

রমজানের ত্রিশটি রোজা রাখার পর শাওয়ালের ছয়টি রোজা রাখলে মোট রোজার সংখ্যা দাঁড়ায় ছত্রিশটি। আর ছত্রিশটি রোজার দশগুণ হচ্ছে তিনশ ষাটটি রোজা। এ অর্থেই শাওয়ালের ছয় রোজার মাধ্যমে পুরো বছরের রোজা রাখার সওয়াব পাওয়া যায়। হাদিসের ভাষ্য থেকে এটাও স্পষ্ট, শাওয়ালের ছয় রোজা দিয়ে পুরো বছরের রোজার নেকি হাসিল করতে হলে অবশ্যই রমজানের পুরো মাস রোজা রাখতে হবে। রমজানের রোজা না রেখে, কিংবা কিছু রেখে কিছু না রেখে শাওয়ালের রোজা রাখলে এ ফজিলত পাওয়া যাবে না। রমজান মাস যদি উনত্রিশ দিনে শেষ হয়ে যায়, তবু এ সওয়াব প্রাপ্তির জন্যে শাওয়ালের ছয়টি রোজাই যথেষ্ট। এক্ষেত্রে এমনটি মনে করার অবকাশ নেই, রমজান মাস উনত্রিশ দিনে শেষ হলে হয়তো শাওয়াল মাসে সাতটি রোজা রাখতে হবে। কারণ হাদিসে স্পষ্টভাবেই রমজান মাসের রোজা রাখার পর শাওয়ালের ছয়টি রোজা রাখার কথা বলা হয়েছে। রমজান মাস ত্রিশ দিনে শেষ হলো, না উনত্রিশ দিনে-তা এক্ষেত্রে বিবেচ্য নয়।

শাওয়ালের ৬ রোজা রাখার নিয়ম 

এ ছয়টি রোজা কীভাবে রাখতে হবে— বিরতিহীনভাবে, না বিরতি দিয়ে দিয়ে? ইদুল ফিতরের পর পর, না মাসের শেষ দিকে? না মাসের মাঝের দিনগুলোতে? এসব বিষয়ে হাদিসবিশারদ মনীষীগণের পক্ষ থেকে সবরকম মতই বর্ণিত হয়েছে। কেউ বলেছেন, মাসের শুরুর দিকে বিরতিহীনভাবে এ ছয় রোজা রাখা উত্তম। কারণ এতে একটি কল্যাণকর কাজ দ্রুত সম্পাদিত হবে। আবার কেউ বলেছেন, শেষ দিকে কিংবা বিরতি দিয়ে দিয়ে রোজাগুলো রাখা উত্তম হবে। কেননা এতে রমজানের ফরজ রোজার সাথে এ নফল রোজার একটি পার্থক্য স্পষ্টরূপে ফুটে উঠবে। মোটকথা, এ রোজাগুলো যেভাবেই রাখা হোক, মাসের যে সময়েই রাখা হোক, হাদিসে বর্ণিত এ সওয়াব পাওয়া যাবে ইনশাআল্লাহ। অনেকে অবশ্য বিরতিহীনভাবে এ ছয় রোজা রাখাকে জরুরি মনে করে থাকে, এ ধারণাটি ঠিক নয়। মহান রব আমাদের নেক আমল করার তওফিক দান করুন আমিন। 

গফরগাঁও উপজেলার সময়ানুযায়ী শাওয়াল মাসের সাহরি-ইফতারসূচি 
অনুলিপি: Muslims Day Post • March 22, 2026
সম্পাদনা : লেখাপত্র 

মানব শয়তানের পায়ে বেড়ি পরাও হে রোজাদার


প্রিন্ট ভার্সন বাংলাদেশ প্রতিদিন  
রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

মানব শয়তানের পায়ে বেড়ি পরাও হে রোজাদার 

✒️সেলিম হোসাইন আজাদী
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল (সা.) বলেছেন, ‘রমজান শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জান্নাতের দুয়ারগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। আর শয়তানগুলোকে পরানো হয় বেড়ি। ’ (বুখারি, হাদিস ৩২৭৭; মুসলিম, হাদিস ১০৭৯। ) হাদিসে ‘শয়তানদের বেড়ি পরানোর’ বিষয়টি বোঝাতে দুই জায়গায় দুই ধরনের শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে।

এক জায়গায় বলা হয়েছে, ‘সুলসিলাতিশ শায়াতিন’। আরেক জায়গায় বলা হয়েছে, ‘সুফফিদাতিশ শায়াতিন। ’ সুলসিলাত অর্থ হলো শেকল দিয়ে বেঁধে ফেলা। আবার সুফফিদাত অর্থও বেঁধে ফেলা।
কিন্তু দুই বাঁধার মধ্যে রয়েছে সূক্ষ্ম পার্থক্য। সুলসিলাত শব্দটি এসেছে সিলসিলা শব্দ থেকে। এ শব্দটি আমাদের মধ্যে বেশ পরিচিতি। পীরদের দরবারে শব্দটি বেশি ব্যবহার হয়।
যেমন বলা হয়, উনি চিশতিয়া সিলসিলার ১৩তম পীর। তার মানে সিলসিলা অর্থ ক্রমধারা বা ধারাবাহিতা। বংশধারার ক্ষেত্রেও সিলসিলা শব্দটি ব্যবহার হয়। মূলত যে জিনিস একটার পর একটা ক্রমান্বয়ে আসতে থাকে তাকে বলে সিলসিলা। ইংরেজিতে এর ভালো সমার্থক শব্দ হলো ‘সিরিজ’।
এক পর্বের পর এক পর্ব বা ধারাবাহিক। হাদিসে সিলসিলা শব্দটি শেকল অর্থে ব্যবহার হয়েছে। যেহেতু শেকলের আংটা একটার সঙ্গে একটা লাগানো থাকে বা একটার পর একটা আংটা সাজানো থাকে তাই সিলসিলা অর্থ শেকল। নবীজি বলেছেন, ‘সুলসিলাতিশ শায়াতিন। শয়তানগুলোকে শেকল দিয়ে বেঁধে ফেলা হয়। ’ এখানে সুলসিলাতি ক্রিয়াটি মাজহুল বা কর্মবাচ্য রূপে ব্যবহার করা হয়েছে। শয়তানদের বেঁধে ফেলা হয়। কে বেঁধে ফেলেন তা উল্লেখ নেই। উল্লেখ না থাকলেও আমরা জানি আল্লাহ বেঁধে ফেলেন। যেহেতু আল্লাহ বা কর্তা উল্লেখ নেই তাই এটা কর্মবাচ্য বা ফেলে মাজহুলের সিগাহ।
রাখাল মাঠে গরু বাঁধেন। ছাগল বাঁধেন। বাঁধার সময় গলার দড়িটা মোটামুটি লম্বা করে দেন। যেন গলায় টান না লাগে। বড় জায়গাজুড়ে ঘাস খেতে পারে। তার মানে গলায় দড়ি থাকলেও বাঁধনটা গরু বা ছাগলের জন্য খুব কষ্টকর নয়। সে খেতে পারে। হাঁটতে পারে। কিন্তু নির্দিষ্ট সীমার বাইরে যেতে পারে না। এ ধরনের আরামদায়ক সীমানায় শেকল দিয়ে বাঁধার ক্ষেত্রে আরবিতে সিলসিলা শব্দ ব্যবহার হয়ে থাকে। তাই সুলসিলাতিশ শায়াতিন মানে হলো, রমজান মাসে শয়তানের চলাফেরা সীমিত করে দেওয়া হয়। আগে সে যখন খুশি যেখানে খুশি যেতে পারত, রমজান মাসে তার এই স্বাধীনতায় আল্লাহ শেকল পরিয়ে দেন। সে শুধু নির্দিষ্ট সীমানায় চলাফেরা করতে পারে। যেমন মদের দোকানে। অশ্লীল আড্ডায়। জুয়ার আসরে। এরকম অন্যান্য পাপের আখড়ার মধ্যেই তার চলাফেরা সীমিত হয়ে যায়। কোরআনে সুলসিলাত শব্দটি হুবহু এই রূপে ব্যবহার হয়নি। তবে সিলসিলা এবং সালাসিলা ব্যবহার হয়েছে মোট তিন জায়গায়। সব জায়গাতেই অপরাধীদের শাস্তি হিসেবে বাঁধার কথা বলা হয়েছে। সুরা হাক্কায় একবচনে সিলসিলা ব্যবহার হয়েছে ৩২ নম্বর আয়াতে। আল্লাহ বলেন, ‘ফেরেশতাদেরকে নির্দেশ দেওয়া হবে, ওকে ধরো, গলায় বেড়ি লাগাও আর নিক্ষেপ করো জাহান্নামে। এরপর ওকে বাঁধো ৭০ হাত দীর্ঘ শিকলে। ’ (সুরা হাক্কাহ, আয়াত ৩০-৩২। ) অর্থাৎ বড় শেকলের ক্ষেত্রে সিলসিলা শব্দ ব্যবহার হয়।

সুফফিদাত শব্দটি এসেছে সাফাদা থেকে। সাফাদা মানে হলো বেড়ি বা হ্যান্ডকাফ। আসফাদ মানে হলো অনেকগুলো হ্যান্ডকাফ বা বেড়ি। শেকল অর্থেও সাফাদা ব্যবহার করা যায়। কিন্তু পার্থক্য হলো বাঁধার ধরনের ওপর। যে বাঁধনে কিছুটা নড়াচড়ার সুযোগ থাকে সেটাকে বলা হয় সুলসিলাত। আর যে বাঁধনে নড়াচড়ার কোনো সুযোগ নেই সে ধরনের বাঁধনকে বলা হয় সুফফিদাত। যেমন- অপরাধীদের হাতে হ্যান্ডকাফ বা পায়ে বেড়ি পড়ানোর সেক্ষেত্রে সুফফিদাত বলা যেতে পারে। তবে সুফফিদাতের সঠিক অর্থ তখন প্রকাশ পাবে যখন অপরাধীর হাত, পা পিঠ ও মাথার সঙ্গে টাইট করে বেঁধে ফেলা হয়। বাংলায় খুব সুন্দর একটি শব্দ আছে- আষ্টেপৃষ্টে বেঁধে ফেলা। সুফফিদাত বলতে তাই বোঝানো হয়। তাহলে হাদিসের অর্থ হবে, রমজান মাসে শয়তানকে আষ্টেপৃষ্টে বেঁধে ফেলা হয়। শয়তান কোনো ধরনের নড়াচড়ার সুযোগ পায় না। এখানেও ফেলের মাজহুল বা কর্মবাচ্য রূপ ব্যবহার করা হয়েছে।

মুহাদ্দিসিনে কেরাম বলেন, রমজান মাসে বড় শয়তানগুলোকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলা হয়। আর ছোট শয়তানগুলোর গলায় বেড়ি পরিয়ে চলাচল সীমিত করা হয়। যে কারণে মসজিদে, স্কুলে, বাজারে, সমাজের ভালো ভালো আড্ডায় শয়তানের কতৃত্ব থাকে না। কিন্তু বহু বছর ধরে দেখে আসছি রমজানেই আমাদের মুনাফাখোরি, ঘুষ, দুর্নীতি, প্রতারণা, মিথ্যা বহু গুণ বেড়ে যায়। ঘুষখোর বলে, ভাই একটু বাড়িয়ে ঘুষ দিয়েন, বোঝেনই তো রোজার বাজার। মুনাফাখোর, ভেজাল ব্যবসায়ীরা সারা বছর মুখিয়ে থাকে রোজাদারকে ঠকানোর জন্য। প্রশ্ন জাগে, শয়তান যদি বন্দি থাকে তাহলে এমনটা কেন হয়? আসলে শয়তান দুই প্রকার। জিন শয়তান ও মানুষ শয়তান। সুরা নাসের শেষ আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, ‘মিনাল জিন্নাতি ওয়ান্নাস। ’ জিন শয়তানকে বেড়ি পরানো হলেও মানব শয়তানের গলায় বেড়ি পরানোর দায়িত্ব আমাদের নিজের। নিজ নিজ নফসের গলায় দড়ি পরাই না বলেই রমজান মাসে আমাদের ভিতরের লোভ, হিংসা, বাটপারি সীমাহীন বেড়ে যায়। আমাদের আমল দেখে মনে হবে শয়তানের খেলাফতের দায়িত্ব পালন করছি আমরা। অথচ আমাদের দায়িত্ব হলো আল্লাহর খেলাফতের দায়িত্ব পালন করা।

প্রিয় পাঠক! সুফিরা বলেন, রমজান মাসে আল্লাহ জিন শয়তানকে বেঁধে ফেলেছেন। এখন আমাদের দায়িত্ব হলো নিজের নফসকে আনুগত্যের শেকল দিয়ে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলা। আমরা নফসকে লাগাম পরাতে পারি না বলেই জিন শয়তানকে বেঁধে রাখার পরও সমাজ থেকে গোনাহের স্রোত থামানো সম্ভব হয় না। আসুন! আমাদের ভিতর লুকিয়ে থাকা মানব শয়তানের গলায় বেড়ি পরাই। তাহলেই আমাদের সিয়াম সাধনা সার্থক হবে। আমরা হব মুত্তাকি, জান্নাতি।

লেখক : প্রিন্সিপাল, সেইফ এডুকেশন ইনস্টিটিউট
পীর সাহেব, আউলিয়ানগর, www.selimazadi.com


নব অঙ্কুর

⚪ কবিতা  || 

উৎসর্গ:        

“যাঁর পদধ্বনিতে মিশে আছে 
অগণিত হৃদয়ের প্রত্যাশা,
যাঁর ছায়ায় শান্ত হতে চায় 
এক তৃষ্ণার্ত জনপদ।
গণমানুষের সেই স্বপ্নের সারথি—
জনাব আক্তারুজ্জামান বাচ্চু,
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য-১৫৫
ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও)—
এই ক্ষুদ্র নিবেদন আপনার সমীপে।

নব অঙ্কুর

✒️ আশফ ইবনে আকন্দ 

জনাব,
খুব কাছে থেকে দেখা হয়নি 
আপনাকে কোনোদিন;
দূর আকাশে আচমকা জ্বলে ওঠা
একটি বিদ্যুতরেখার মতো
হঠাৎ দেখেছি—
এক নিমেষের দীপ্তিতে।

আপনি ছিলেন দ্রুতযানের সওয়ার,
সময়কে পেছনে ফেলে ছুটে চলা 
এক অভিযাত্রী;
আর আমি—
ধুলোমাখা পথের নীরব পথচারী,
দু-চোখ ভরা বিস্ময় নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা
এক সামান্য দর্শক।

আমি রৌদ্রদগ্ধ প্রান্তরের
অবহেলিত, অনামা বুনো ঘাসফুল। 
আপনি বিস্ময়-সুরভিত এক জনপ্রতিনিধি—
শালিমার বাগের মতো রাজকীয় প্রস্ফুটন।
আপনার সুখ্যাতি ও কর্মের সৌরভ
ছড়িয়ে পড়ুক দূর দিগন্তে।

ফাল্গুনী বাতাস যেমন
অচেনা গাছের পাতায়ও পরশ রেখে যায়,
তেমনি আপনার মঙ্গলস্পর্শ
ছড়িয়ে যাক প্রতিটি দোরগোড়ায়—
প্রার্থনার মাদুরে,
স্বপ্নের উঠোনে,
অপেক্ষার খোলা জানালায়।

আপনি শুধু 
একক গোষ্ঠীর কান্ডারি নন—
হয়ে উঠুন সবার;
একটি জনপদের আশার আলো,
ভরসার শীতল ছায়া,
আকাঙ্ক্ষার সুউচ্চ মিনার। 

দুষ্কর্ম আর হিংসার মূলোৎপাটন হোক
আপনার দৃষ্টির নীরব দীপ্তিতে;
অন্যায়ের কাঁটা ঝরে পড়ুক
আপনার উচ্চারণের সংযত বজ্রধ্বনিতে।

মানুষের বুকের ভেতর
আবার অঙ্কুরিত হোক শান্তির শস্য,
আর আপনার পথচলা হোক—
এক সুবাসিত ঋতুর দীর্ঘ প্রতিশ্রুতি,
এই প্রত্যাশায় অর্পণ করি 
আকাঙ্ক্ষা-মোড়ানো পঙ্‌ক্তিমালা!
                          ※ 

    🏠︎ গফরগাঁও, ময়মনসিংহ। 
    🗓️  ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রি.।
    ⓕ  ফেসবুকে পড়ুন 🔗


লেখাপত্র ২০২৫. Blogger দ্বারা পরিচালিত.

সর্বশেষ

অস্পৃশ্য স্বাধীনতা

অস্পৃশ্য স্বাধীনতা ​ — আশরাফ ইবনে আকন্দ হে স্বাধীনতা, তুমি ঠোঁটের ডগায় লেগে থাকা মানে না বোঝা পুরোনো কোনো মন্ত্র, এক অভ্যস্ত উচ্চারণ। তুমি ...

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Contact form

নাম

ইমেল *

বার্তা *

অধিক পঠিত পোস্ট